বর্তমানে ডেনমার্ক, ক্রোয়েশিয়া বা সুইডেনের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোতে কাজের প্রচুর চাহিদা তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে অনেক প্রতারক চক্র ভুয়া ডিমান্ড লেটার বা অফার লেটার দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আপনি যাতে প্রতারিত না হন, সেজন্য কোনো অফার লেটার হাতে পাওয়ার পর নিচের ৫টি টেকনিক্যাল বিষয় অবশ্যই যাচাই করে নেবেন:

১. বিজনেস রেজিস্ট্রেশন নম্বর (Business ID) যাচাই

ইউরোপের প্রতিটি বৈধ কোম্পানির একটি সরকারি পরিচয় নম্বর থাকে। ডিমান্ড লেটারে এটি থাকা বাধ্যতামূলক।

  • ডেনমার্কের জন্য: দেখুন ৮ সংখ্যার CVR Number আছে কিনা।
  • ক্রোয়েশিয়ার জন্য: দেখুন ১১ সংখ্যার OIB Number আছে কিনা।
  • সুইডেনের জন্য: দেখুন ১০ সংখ্যার Org.nr আছে কিনা।

টিপস: ডেনমার্কের কোম্পানির ক্ষেত্রে আপনি নিজেই virk.dk সাইটে গিয়ে ওই নম্বরটি দিয়ে সার্চ করে দেখতে পারেন কোম্পানিটি বর্তমানে সচল আছে কিনা।

২. প্রফেশনাল ইমেইল ডোমেইন (Email Domain)

কোনো নামী ইউরোপীয় কোম্পানি কখনোই ফ্রি ইমেইল সার্ভিস (যেমন: @gmail.com, @yahoo.com) ব্যবহার করে ডিমান্ড লেটার পাঠাবে না।

  • সঠিক পদ্ধতি: ইমেইলটি অবশ্যই কোম্পানির নিজস্ব ডোমেইন থেকে আসতে হবে (যেমন: info@danishfood.dk অথবা hr@croatia-agro.hr)। ইমেইলের শেষের অংশটি কোম্পানির ওয়েবসাইটের সাথে মিল আছে কিনা তা লক্ষ্য করুন।

৩. পজিটিভ লিস্ট (Positive List) ও জব ডেসক্রিপশন

ডেনমার্ক বা সুইডেনের মতো দেশগুলো সব পেশায় সহজে ভিসা দেয় না। তাদের একটি 'Positive List' বা চাহিদার তালিকা থাকে।

  • যাচাই: আপনার অফার লেটারে যে পদের নাম লেখা আছে, তা ওই দেশের ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটের ডিমান্ড লিস্টে আছে কিনা মিলিয়ে দেখুন। পদের নাম বা কাজের বিবরণে অসামঞ্জস্য থাকলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।

৪. বেতন ও ট্যাক্স কাঠামো (Gross vs Net Salary)

ইউরোপে বেতনের নিয়ম অত্যন্ত স্বচ্ছ। অফার লেটারে বেতন কেবল একটি সংখ্যা হিসেবে থাকে না।

  • সেখানে পরিষ্কার উল্লেখ থাকতে হবে আপনার বেতন Gross (ট্যাক্স কাটার আগে) নাকি Net (ট্যাক্স কাটার পর হাতে পাওয়া টাকা)।
  • যদি কোনো অফার লেটারে অস্বাভাবিক বেশি বেতন (যা ওই দেশের গড় বেতনের চেয়ে অনেক বেশি) উল্লেখ থাকে, তবে সেটি ভুয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  •  

৫. স্বাক্ষর ও ডিজিটাল ভেরিফিকেশন (NemID/MitID)

ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো এখন সনাতন স্বাক্ষরের চেয়ে ডিজিটাল স্বাক্ষর বেশি ব্যবহার করে। ডেনমার্কের ক্ষেত্রে অনেক সময় NemID বা MitID ভেরিফাইড ডকুমেন্ট দেওয়া হয়। এছাড়া ডিমান্ড লেটারটি সংশ্লিষ্ট দেশের চেম্বার অফ কমার্স (Chamber of Commerce) বা শ্রম মন্ত্রণালয় দ্বারা সত্যায়িত কিনা, তা অফার লেটারের নিচের সিল ও স্বাক্ষর দেখে নিশ্চিত হতে হবে।

 

বিশেষ পরামর্শ:

"একটি ভুয়া কাগজ আপনার সময় এবং অর্থ দুই-ই নষ্ট করতে পারে। আমরা Grameen Tours & Travels-এ প্রতিটি ডিমান্ড লেটার সরাসরি বিদেশি কোম্পানির সিইও বা এইচআর-এর সাথে কথা বলে এবং তাদের সরকারি ডেটাবেস থেকে যাচাই করে তবেই ক্লায়েন্টদের জানাই। তথ্যের সঠিকতা যাচাই করাই আমাদের সাফল্যের মূল মন্ত্র।"

 

কেন আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন?

  • আমরা ডেনমার্ক ও ইউরোপের ইমিগ্রেশন পলিসি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখি।
  • আমাদের অভিজ্ঞ স্টাফরা প্রতিটি ডকুমেন্ট খুঁটিনাটি যাচাই করার জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত।
  • আমরা সরাসরি বিদেশি নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগ বজায় রাখি, ফলে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর প্রতারণার সুযোগ নেই।